আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাস

বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তরে সর্বশেষ প্রান্তে ১ নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের (সাবেক আগরপুর) সবচেয়ে বড় ও জনবহুল গ্রামের নাম ঠাকুরমল্লিক। গ্রামের বেশী ভাগ লোকই শিক্ষিত ও চাকুরীজিবী। ১৯৫৮ ইং সন হইতে গ্রামবাসীর স্বপ্ন ছিল ঠাকুরমল্লিক গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও নিজেদের মধ্যে কলহ, দলাদলি, হিংসা, বিদ্বেস, বংশীয় আভিজাত্য, পরষ্পরের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস এবং উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে তাদের পূর্ব পুরুষগন প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি কাংখিত প্রতিষ্ঠানটি। তাদের আত্মকলহের সুযোগে তাদেরই প্রত্যক্ষ সাহায্য ও সহযোগিতায় ১৯৬৯ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হয় পাশ্ববর্তী গ্রামে জাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এলাকার যুবক, জাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ঠাকুরমল্লিক গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী তথা আপামর জনসাধারনের মনে জাগে ঠাকুরমল্লিক গ্রামে পুনরায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। তারা মুছে ফেলতে চাইল তাদের পুর্ব পুরুষদের ব্যর্থতার গ্লানি। স্বাধীনতার পর নতুন প্রজন্মের এই স্বপ্ন থেকেই জন্ম হয় ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। নতুন প্রজন্ম এবং গ্রামের আপামর জনসাধারনের সর্বসম্মতিতে মোঃ আকবর হোসেন সান্টু (তখন ১৮ বছরের যুবক ও বি.এম কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী) এবং খান ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ কে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের। কিন্তু দুঃখের বিষয় খান ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ কয়েক মাসের মধ্য তার উন্নতর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য মোঃ আকবর হোসেন সান্টুর উপর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্পুর্ন দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে চলে যান। তখন মোঃ আকবর হোসেন সান্টু কে মোঃ গোলাম মোস্তফা মজনুর সহযোগিতা নিয়ে একক ভাবে দায়িত্ব নিতে হয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। প্রতিটি মহৎ কাজের পেছনে অবশ্যই উদ্দেশ্য থাকে , থাকে পরিকল্পনা। তিনি শৈশব থেকেই শুনে আসছে ঠাকুরমল্লিক গ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন গ্রামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। তার সেরকম উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা বা স্বপ্ন কোনদিনই ছিল না। গ্রামের পূর্ব পুরুষদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা এবং জাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই মোঃ আকবর হোসেন সান্টু কে ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উৎসাহ যোগায়। সেই উৎসাহ, অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনা করে দেশের মাটি ও মানুষকে ভালবেসে, শিক্ষার আলোকে বিকশিত করার লক্ষ্যে, দীর্ঘ ১২ (বার) টি বছরের সংকট (১৯৭২ ইং থেকে ১৯৮৩ ইং পর্যন্ত) ও সংশয়ের কুয়াশায় সুযোগ্য নের্তৃত্ব দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদিতে সমর্থ হয়। এলাকাবাসীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদিতে গিয়ে অন্য অপর দশটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মত ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি পেতে ব্যর্থ হয়। নতুন প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে বাধ সাধলেন জাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি যাহাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পায় তার জন্য শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে আপত্তি সহ কোটেও তারা পর পর ৪ (চার) বার মামলা দায়ের করেন। তাদের এই আপত্তি ও মামলার মুল কারনটা ছিল ঠাকুরমল্লিক ও জাহাপুর এই দুই গ্রামের ২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যবর্তী দুরত্ব মাত্র কোয়াটার মাইল। তাই এত কম দুরত্বের মধ্যে ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্বীকৃতি পেতে পারে না। আর ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার পক্ষে গ্রামবাসীর প্রধান যুক্তি ছিল দুই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্য দুরত্ব কম হলেও উভয় গ্রামের মাঝে ২ টি বড়খাল যাহা ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে। জাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই আপত্তি ও মামলার গুহভেদ করে মোঃ আকবর হোসেন সান্টু গ্রামবাসীর স্বপ্নের ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি পেতে সক্ষম হয়। বিদ্যালয়ের বলিষ্ঠ ম্যানেজিং কমিটি, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিদের সার্বিক সহযোগিতা, শিক্ষায় নিবেদিত প্রান সুযোগ্য শিক্ষকদের আন্তরিকতায় সম্পুর্ন রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত নির্মল পরিবেশে ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।